চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে এক অভিনব ও অমানবিক ঘটনার নজির সৃষ্টি হয়েছে; যেখানে মৃত্যুর পরও শেষ ঠিকানা হয়নি পৈতৃক গোরস্থানে। রোববার (১২ অক্টোবর) পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করতে বাধা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ নুরুল ইসলামকে বাধ্য হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাফন করতে হয়েছে শোকাহত স্বজনদের।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, উপজেলার কুলশী মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা নুরুল ইসলাম মিয়াজী রোববার বেলা ১১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর শোকের আবহ পেরিয়ে পরিবার ও স্বজনরা যখন দাফনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন, তখনই বাধে বিপত্তি। একই বাড়ির মো. আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক গোরস্থানে মরদেহ দাফন করতে কড়া বাধা প্রদান করেন। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের জেরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং উভয়পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
তবে পুলিশের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পারিবারিক দ্বন্দ্বের কোনো সুরাহা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে এবং মরহুমের সম্মানহানি এড়াতে তার স্বজনরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে পারিবারিক গোরস্থানের পরিবর্তে বাড়ির আঙিনাতেই দাফন সম্পন্ন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। রোববার আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে রাতে বাড়ির আঙিনাতেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মৃত নুরুল ইসলামের ভাগনে খোকন পাটোয়ারী জানান, তার মামার কোনো পুত্রসন্তান ছিল না, শুধু পাঁচ কন্যাসন্তান রয়েছে। যুগ যুগ ধরে তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের যে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়ে আসছে, সেই পবিত্র স্থানেই মামাকে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বিব্রতকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়ি ও সংঘাত এড়াতেই তারা বাধ্য হয়ে গোরস্থানের পরিবর্তে বাড়ির আঙিনায় দাফন সম্পন্ন করার এই সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, দাফনে বাধার বিষয়ে প্রতিপক্ষ পরিবারের সদস্য ও ভাতিজা মাহবুবুর আলম দাবি করেন, এটি তাদের পারিবারিক গোরস্থান। প্রতিপক্ষ মো. আলম কিছুদিন আগে সম্পত্তির অংশ নিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আদালত এ বিষয়ে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা কিংবা চূড়ান্ত রায় প্রদান করেননি। তারপরও একটি সংবেদনশীল মুহূর্তে এমন অমানবিক আচরণে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ এমন ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও এ ধরনের অমানবিক বিরোধের আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।