গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. তারা মিয়া (৫৬) নামের এক ভিডিপি সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সাদুল্লাপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের নছিম উদ্দিনের ছেলে তারা মিয়া পূর্ব কিশামত হামিদ সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। চিকিৎসকের বরাته জেলা আনসার ও ভিডিপি বিভাগ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও আনসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকালেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা মিয়া। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুরে নেওয়ার পথে অবস্থার আরও অবনতি হলে স্বজনরা তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে মুঠোফোনে জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের কমান্ড্যান্ট আবু সোলায়মান (বিভিএমএস) জানান, প্রাথমিক চিকিৎসকদের ধারণা অনুযায়ী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই ওই ভিডিপি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতের এক ছেলে বাইরে অবস্থান করায় পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বাহিনীর পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে ১৮ অক্টোবর একই উপজেলার কিশামত বড়বাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে পূজার দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে মারা যান মোছা. পারভীন বেগম (৪৫) নামের আরেক নারী ভিডিপি সদস্য। দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ি গ্রামের মফিজল হকের মেয়ে পারভীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে দুই ভিডিপি সদস্যের এমন আকস্মিক প্রয়াণে পুরো জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চলতি বছর গাইবান্ধা জেলায় মোট ৬৩২টি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করা হচ্ছে। এসব মণ্ডপের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির ৪ হাজার ২ জন নারী ও পুরুষ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে প্রতিটি মণ্ডপে দুজন করে নারী সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। ধারাবাহিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় মহলে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।