Advertisement

১৪০ দিন পর ঝিনাইদহ থেকে আফগান নাগরিকের লাশ উত্তোলন ও স্বজনের কাছে হস্তান্তর

দীর্ঘ আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনের পর ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশি উপস্থিতিতে দাফনের ১৪০ দিন পর কবর থেকে এই দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা আফগানিস্তান থেকে আসা নিহতের ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লাশ উত্তোলনের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা তাসনিম, মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক টিপু সুলতান এবং নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুমসহ সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভাইয়ের মরদেহ ফিরে পেয়ে ইমাল মোহাম্মদী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশ সরকার, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, অসুস্থ মায়ের শেষ ইচ্ছার সম্মান জানাতেই তিনি ভাইয়ের মরদেহ নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মরদেহটি হস্তান্তরের পরিবেশ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ও মানবিক ভূমিকা দাপ্তরিক কার্যক্রমকে দ্রুত ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র ও আইনি বিধিবিধান অনুসরণ করেই মৃতদেহটি স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে অজ্ঞাত হিসেবে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবার তাকে শনাক্ত করলে মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫৮ দিন বাংলাদেশে অবস্থানের পর অবশেষে স্বজনরা হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ নিয়ে আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%