ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রী নিহত আহত পাঁচ

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া বাজার এলাকায় রোববার বিকেলে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া নামের এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। স্কুল ছুটির পর সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অরক্ষিত ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে পড়ে। এ ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঘাতক বাসটি শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে তিন জন চাকার নিচে আটকে পড়ে এবং আরও তিন জন ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে বাসটি উল্টিয়ে সিলোনীয়া হাইস্কুলের এসব শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ছয় জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার সুরাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুরাইয়া একই ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মো. হানিফের মেয়ে।
আহতদের মধ্যে রাইসা নামের এক ছাত্রীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটি আটক ও ভাঙচুর করেন, তবে চালক কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ সময় স্থানীয়রা মহাসড়কে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাসটি জব্দ করে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সিলোনীয়া বাজার ও এর আশপাশের মূল সড়কের ফুটপাত দখল করে প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে শো-মিলের গাছ, অবৈধ ট্রাক্টর ও বালির স্তূপ তৈরি করে রেখেছে। দখলদারিত্বের কারণে পথচারীরা ফুটপাতে হাঁটতে না পেরে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন। গত তিন বছরে ফুটপাত দখল ও সড়ক অব্যবস্থাপনার কারণে এ এলাকায় গাড়িচাপায় মোট চার জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এ ঘটনায় সিলোনীয়া বাজারের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঘাতক বাস চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
