সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাত লাশ উদ্ধার করলেন সাইফুল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীর একটি শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় না করেই শ্রমিকদের ভেতরে পাঠানোর ফলে নয় শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর যখন পুরো এলাকা শোকের চাদরে ঢাকা পড়েছে, তখন মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল গনি। বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় যখন খোদ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলও নিরাপত্তার স্বার্থে ভেতরে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি একে একে সাতটি লাশ উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাইফুল গনি। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে অনেকেই তার পরিচিত ও প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে তিনি স্থির থাকতে পারেননি। শিপইয়ার্ডের ভেতর চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে কোনো অ্যাম্বুলেন্স কিংবা প্রাথমিক উদ্ধার সহায়তা ছিল না। তার এই সাহসী উদ্যোগে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও শামিল হন এবং উদ্ধারকার্যে সহায়তা করেন।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মামুন জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে কার্বন মনোক্সাইডসহ প্রাণঘাতী গ্যাস নির্গত হওয়ায় সেখানে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাখাওয়াত হোসেনের মতে, টক্সিক গ্যাসের বিষক্রিয়াই শ্রমিকদের মৃত্যুর মূল কারণ। তবে গ্যাসের উৎস ও ধরণ নিয়ে দুই দপ্তরের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত কারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ভাটিয়ারী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীপাড়ার দুই সহোদর মো. মনসুর ও মো. নাসির এবং শনি ঠাকুরপাড়ার পলাশ জলদাশ ও সানি জলদাশ রয়েছেন। এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর শিপইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ট্যাংকের ভেতরে গ্যাস পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং জরুরি উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিপইয়ার্ড এলাকা পরিদর্শনে যান বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। এ সময় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল গনির কাছে উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত শোনেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা শোকের সাগরে ভাসলেও, সাইফুলের সাহসিকতা স্থানীয়দের মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
