Advertisement

অন্যের পরিচয়ে রমজানের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা খাটছেন নিরপরাধ সোনা মিয়া

কক্সবাজার জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে অন্যের পরিচয়ে ইয়াবা মামলার আসামি হয়ে সাজা ভোগ করছেন এক নিরপরাধ ব্যক্তি। ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২০ সালের ২ মার্চ, যখন ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সেই মামলায় দ্বিতীয় আসামি হিসেবে কুতুবদিয়াপাড়ার বাসিন্দা সোনা মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। অথচ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়া অভিযোগপত্র দাখিলের সময় স্বীকার করেছিলেন যে, সোনা মিয়ার নাম-ঠিকানা যাচাই করে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও মামলাটি একইভাবে বিচার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ওই মামলার ‘সোনা মিয়া’ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ২০২২ সালের জুনে আদালত থেকে জামিন পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত মামলার পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এরপর গত ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একটি দল ওয়ারেন্টমূলে প্রকৃত সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। কারাবন্দি হওয়ার কয়েক দিন পর নিজের মৃত্যুদণ্ডের খবর জেনে সোনা মিয়া হতবাক হয়ে পড়েন এবং জেল সুপারের কাছে লিখিত আবেদন জানান যে, তিনি ওই মাদক মামলার প্রকৃত আসামি নন।

বিজ্ঞাপন

আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ পুনরায় তদন্ত শুরু করলে বেরিয়ে আসে এক ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য। পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি আসলে সোনা মিয়া নন, তার প্রকৃত নাম রমজান। তিনি রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসে সোনা মিয়ার জন্ম নিবন্ধনের কপি ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। পুলিশের প্রতিবেদনে দুই ব্যক্তির শারীরিক গঠন, পারিবারিক পরিচয় ও শনাক্তকরণ চিহ্নের বিস্তর পার্থক্য স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। যেখানে প্রকৃত সোনা মিয়ার ওজন ৪২ কেজি এবং উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, সেখানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া রমজানের শারীরিক গঠন ছিল ভিন্ন।

আইনজীবীরা মনে করছেন, তদন্ত কর্মকর্তার চরম গাফিলতির কারণেই এমন গুরুতর ত্রুটি ঘটেছে। মামলার শুরুতেই আসামির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত না করে অভিযোগপত্র দাখিল এবং পরবর্তীতে জামিন প্রক্রিয়ায় আইনি শিথিলতা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বর্তমানে প্রকৃত সোনা মিয়া কারাবন্দি অবস্থায় ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন। ঘটনার শিকার সোনা মিয়ার পরিবার এবং স্থানীয় সচেতন মহল এ চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা প্রকৃত অপরাধী রমজানকে খুঁজে বের করা এবং নিরপরাধ সোনা মিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%