AdvertisementAdvertisement

স্থায়ী ভেন্যুর তীব্র সংকটে থমকে আছে দেশের কনসার্ট ও সংগীতশিল্প

ঢাকায় নাটক ও নৃত্যচর্চার জন্য গাইড হাউস বা শিল্পকলা একাডেমির মতো নির্দিষ্ট কিছু স্থান থাকলেও, সংগীতশিল্পীদের জন্য নেই কোনো স্থায়ী মঞ্চ। সময়ের বিবর্তনে ঢাকা শহরের খোলা মাঠগুলো একে একে কনসার্টের জন্য অনুপযোগী হয়ে ওঠায় সংগীতের প্রাণকেন্দ্রগুলো যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় যে কমলাপুর স্টেডিয়াম, আর্মি স্টেডিয়াম কিংবা ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুরের মূর্ছনায় মুখর থাকত আকাশ, এখন তা কেবলই স্মৃতি। আধুনিক মঞ্চ, নিরাপত্তা ও আকাশচুম্বী ভাড়ার জটিলতায় খোলা আকাশের নিচে গান করার স্বপ্ন এখন বড় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের সংগীত অঙ্গনের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ারফেজ ব্যান্ডের দলনেতা মনিরুল আলম টিপু মনে করেন, শিল্পের বিকাশে স্থায়ী মঞ্চের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দাঁড়িয়ে একটি ডেডিকেটেড কনসার্ট ভেন্যু না থাকাটা অত্যন্ত হতাশাজনক। মাইলস ব্যান্ডের সদস্য হামিন আহমেদের কণ্ঠেও একই সুর। তিনি মনে করেন, ঢাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে অন্তত ৫ থেকে ২০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইনডোর ও আউটডোর ভেন্যু নির্মাণ করা হলে তবেই দেশীয় সংগীতের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আগে বসুন্ধরা এক্সপো জোন কিংবা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) সংগীতপিপাসুদের অন্যতম ঠিকানা হলেও বর্তমানে সেখানে কনসার্ট আয়োজন বন্ধ রয়েছে। করপোরেট ইভেন্ট ও মেলার ভিড়ে সংগীতের মঞ্চগুলো আজ সংকুচিত। ইভেন্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রিতম দে জানান, বিভাগীয় শহরগুলোতে নির্দিষ্ট ভেন্যু থাকলে শিল্পীরা নিয়মিত দর্শকদের সান্নিধ্য পেতে পারতেন, যা বর্তমানে ভেন্যু সংকটে স্থবির হয়ে আছে।

একটি দেশের সাংস্কৃতিক মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার শিল্পচর্চার সুযোগের ওপর। কনসার্ট কেবল বিনোদন নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন নতুন শিল্পী তৈরির অনুপ্রেরণার উৎস। কনসার্টের মঞ্চে গিটারের সুর কিংবা গায়কের জাদুকরী কণ্ঠ শুনেই তো বেড়ে ওঠে নতুন প্রজন্ম। স্থপতি ও নীতিনির্ধারকদের কাছে সংগীতশিল্পীদের আকুতি একটাই—শুধুমাত্র গানবাজনার জন্য এমন একটি বা দুটি নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ থাকুক, যেখানে বছরজুড়ে সুরের মায়া ছড়িয়ে পড়বে। আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে এই ভেন্যুগুলোই হয়ে উঠতে পারে দেশের সংগীত শিল্পের প্রাণস্পন্দন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%