AdvertisementAdvertisement

দিনাজপুরের খানসামায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক সোনালি ফসলের প্রত্যাশায় মাঠে প্রাণচাঞ্চল্য

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমন চাষের প্রাণচাঞ্চল্য। টানা বৃষ্টি ও বন্যার ধকল কাটিয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে পুরোদমে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। কোথাও বীজতলা থেকে চারা তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও কাদামাখা জমিতে সারিবদ্ধভাবে চলছে চারা রোপণের কর্মযজ্ঞ। ভোরের আলো ফুটতেই কাঁধে ধানের চারা আর মনে সোনালি ফসলের প্রত্যাশা নিয়ে কৃষক ছুটছেন দিগন্তজোড়া ফসলি জমিতে।

উপজেলার আলোকঝাড়ী, ভাবকী, ভেড়ভেড়ী, গোয়ালডিহি, আঙ্গারপাড়া ও খামারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের এই কর্মব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবাদ সম্পন্ন করতে অনেক কৃষক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। শ্রমিক সংকট থাকলেও ফলনের আশায় চাষাবাদে কোনো ভাটা পড়েনি। সময়মতো চারা রোপণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস স্থানীয় কৃষকদের।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমিতেও দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৭১ হাজার ৬৯৭ টন আমন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৃষক জবেদ আলী জানান, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচের খরচ কমেছে এবং জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় চাষাবাদে সুবিধা হয়েছে। তবে সার ও শ্রমিকের বাড়তি খরচ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সুর শোনা গেল গোয়ালডিহি ইউনিয়নের কৃষক ওবায়েদুর রহমানের কণ্ঠেও, যিনি জানান আমন ধানের ভালো উৎপাদন হলে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ কৃষককে পাঁচ কেজি ধান বীজ, দশ কেজি ডিএপি ও দশ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত জমি পরিদর্শন করছেন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি এবং অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাম্পার ফলন পাওয়ার ব্যাপারে তারা অত্যন্ত আশাবাদী।

0%
0%
0%
0%