AdvertisementAdvertisement

অশান্ত পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর: নির্বাচনী সহিংসতায় ঝরল অর্ধশতাধিক প্রাণ, চলছে বয়কট কর্মসূচি

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দুই মাসে চলা এই সংঘাত ও সহিংসতায় অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে। নিহতের তালিকায় সাতজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অঞ্চলটিতে দফায় দফায় নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল করে রাখা হয়েছে।

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ বা জেএএসি। মূলত ১৯৪৮ সালের পর অঞ্চলটিতে অভিবাসী হওয়া শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি সংসদীয় আসন বাতিলের দাবিতে এই আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসব আসনের মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্থানীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রকৃত কাশ্মীরিদের উন্নয়ন তহবিল থেকে বঞ্চিত করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের মে মাসের শেষদিকে সরকারের সঙ্গে জেএএসির আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ৫ জুন কর্তৃপক্ষ জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং অঞ্চলজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর পরপরই রাওয়ালাকোটে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, এই সহিংসতায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, তবে স্থানীয়দের দাবি এই সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।

সরকার বলছে, তারা অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেছেন, এই অস্থিরতার পেছনে ভারতের ইন্ধন রয়েছে। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি দাবি করেছেন, আন্দোলনকারীদের ৩৮টি দাবির মধ্যে ৩৫টিই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অঞ্চলটির রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন তিন ধাপে ভোট গ্রহণের সূচি নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে জুলাইয়ের শেষ ও আগস্টের শুরুতে দুটি ধাপের ভোট সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট চূড়ান্ত ও তৃতীয় দফার ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে বয়কট ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলা এই নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অঞ্চলটিতে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটব্লকসের মতো পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ৫ জুন থেকেই সেখানে আংশিক ব্ল্যাকআউট চলছে। এই সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর ভুয়া তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। রাস্তাঘাট অবরোধের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%